Showing posts with label নকুল কুমার বিশ্বাস. Show all posts
Showing posts with label নকুল কুমার বিশ্বাস. Show all posts

Thursday, November 19, 2009

সমাজকে দেখাতে তুমি পড়ো যে নামাজ - নকুল কুমার বিশ্বাস

0 comments
সমাজকে দেখাতে তুমি পড়ো যে নামাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ
তুমি জালেম হয়ে ধরো যদি আলেমরই সাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ


রোজা রেখে সোজা কভু না হয় যদি মন
লোক দেখানো বোঝা টেনে লাভ কি অকারণ
যদি বন্ধ না হয় রিপুর তাড়ন
কু-স্বভাবের রেওয়াজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ


ঈমান ঠিক করিয়া করো হজ্ব আর যাকাত
নইলে বিফল হবে কালাম-কলমা হাজারো রাকাত
যদি না পৌঁছায় তোর ওই মোনাজাত
পাক দরবারের মাঝ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ


আরাম করে হারাম খেয়ে হারালি ঈমান
অমান্য করিলি আল্‌ কোরাআনের বিধান
আসলে হাশরের ময়দানের নিদান
সাজাবিরে ঠকবাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ


নকুল বলে জীবনে তোর গুনা সীমাহীন
মক্কা গেলেও রক্ষা নাইরে কেয়ামতের দিন
তুই দোজখবাসী হবি সেদিন
পড়বে গজবেরই বাজ
সে নামাজে হবে নাকো পরকালের কাজ

বলো নামের শেষে পদবিটা - নকুল কুমার বিশ্বাস

0 comments
বলো নামের শেষে পদবিটা এই যুগে আর কী দরকার
যুক্তি নাই এই উপাধি এখন টানার
ছিলো প্রাচীনকালে প্রয়োজন খেতাব শুনে পেশা জানার।


হলো কীর্তন করে কীর্তনীয়া ঘর বানাইয়া ঘরামী
গাইন আর বাইন তারাই যারা গান বাজনায় ছিলো নামী
হলো মোড়ল থেকে মণ্ডল টাইটেল টিকা দিয়ে টিকাদার।
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।


প্রচুর ভূমির মালিক যারা তারাইতো ভূঁইয়া-ভৌমিক
বৈরাগ্য থেকে বৈরাগী মল্লযোদ্ধারা মল্লিক
ছিলো কাঠের কাজে বাড়ৈ টাইটেল তালুক থেকে তালুকদার
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।


বাদশাহের রাজস্ব হিসাব রাখতো যে সে মজুমদার
রাজস্ব আদায়কারীদের উপাধি ছিলো সরকার
পেলো পাইকের নেতা সর্দার টাইটেল ঢালী আখ্যা ঢাল যোদ্ধার।
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।


শিবের গাজন গেয়ে বালা আনুগত্য থেকে দাস
রাজার বিশ্বাসী প্রজারা পেয়েছে টাইটেল বিশ্বাস
যারা শান্তিরক্ষক কর্মচারী তারাইতো ছিলো শিকদার।
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।


ছিলো চৌধুরী আর রায় উপাধি যারা রাজা জমিদার
‘হাওলা’ মানে তত্ত্বাবধান সেইসূত্রে হলো হালদার
যে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসক বৈদ্য টাইটেল ছিলো তার।
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।


জাগে পদবিতে হীনতা আর কারও অহঙ্কার
তাই আইন করে এ পদবিকে তুলে দেওয়া খুব দরকার
নকুল কয় পাক্‌ যোগ্য সম্মান- গুণ যোগ্যতা যেটুক যার।
যুক্তি নাই এই পদবি এখন টানার।।

বর্ণভেদের মর্মবাণী শোনো বলি তথ্য তার - নকুল কুমার বিশ্বাস

0 comments
(কথিত শূদ্রবর্ণের লোকেরা মন্দিরের প্রণামীর বাক্সে হাত দিয়ে টাকা ফেললেও প্রণামীর বাক্স বা মন্দির কোনোটাই অপবিত্র হয় না। এমন কি, সেই টাকায় ঠাকুর-দেবতার নৈবিদ্য কিনলেও পূজা অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু কোনো নিম্নবর্ণের ভক্ত যদি পূজারীকে ছুঁয়ে দেয় তখন পূজারীকে আবার স্নান করে অথবা গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ হয়ে তবে পূজায় বসতে হয়। এমনি একটি বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই গানটির উৎপত্তি।)

বর্ণভেদের মর্মবাণী শোনো বলি তথ্য তার
সাহা-কুণ্ডু-ব্রাহ্মণ-মুচি কোন্‌ বর্ণে জন্ম কাহার।


‘বৃ’-ধাতু হইতে সৃষ্টি বর্ণ কথাটিরে ভাই
‘বৃ’ অর্থ বরণ করা শোনো তোমাদের জানাই
যে কর্ম যে বরণ করে
সেজনই সে বর্ণ ধরে
শুদ্রও ব্রাহ্মণ হতে পারে
শাস্ত্রে পাই তা দেখিবার।।


“চাতুরবর্ণং ময়াসৃষ্টং গুণকর্ম বিভাগশঃ”
গীতার পাতায় লেখা আছে খুলে একবার পড়ে এসো
তোমরা গীতার পাতা নাহি পড়ে
পিতার পরিচয়টি ধরে
রকের দাবি শক্ত করে
কেউ ধারো না কারো ধার।।


কর্মগুণে বর্ণ পাল্টায় শাস্ত্রের পাতায় দেখতে পাই
ক্ষত্রিয় সে বিশ্বামিত্র ব্রাহ্মণ হয়েছিলো তাই
শূদ্র নাকি ছিলো শুনি
কক্ষিবত্‌ আর ঔলষমুনি
হলো তারা হয়ে গুণী
ব্রাহ্মণ বর্ণে একাকার।।


তবে শুদ্র গুণী হলেও কেনো বৈশ্যতে ঘৃণা করে
দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত হলেও ব্রাহ্মণে নেয় না ঘরে
বর্ণ-জাতি এক করেছে
ওই বেদখানা কে লিখেছে
নকুল বলে আশা আছে
জাতিভেদ জানিবার।।

একদিন কান্নার রোল উঠবে আমার বাড়িতে - নকুল কুমার বিশ্বাস

0 comments
গীতিকার: নকুল কুমার বিশ্বাস Ф শিল্পী: কুমার বিশ্বজিত
একদিন কান্নার রোল উঠবে আমার বাড়িতে
আমায় নতুন করে দেখতে সবাই আসবে সারি সারিতে

বন্ধু-বান্ধব আসবে যারা
নানা প্রশ্ন করবে তারা
বন্ধু-বান্ধব আসবে যারা
কত প্রশ্ন করবে তারা
আমি থাকব শুয়ে বালিশ ছাড়া
পারব না ঠোঁট নাড়িতে


আপন যারা তারা এসে
সাজাবেরে নতুন বেশে
আমি টিকিট ছাড়া উঠবো শেষে
ইঞ্জিন ছাড়া গাড়িতে

পূজা করো যজ্ঞ করো - নকুল কুমার বিশ্বাস

0 comments
পূজা করো যজ্ঞ করো
মালা জপো টিকি ধরো
একদিন ঘরের খবর লইছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি


অজ্ঞ হইয়া যজ্ঞ করো না জানিয়া বাপের নাম
না জানিয়া পূজিতেছো মাটির গড়া কৃষ্ণ-রাম
তুলসীর মালা জপিতেছো
ভাবিয়া কী দেখিয়াছো
টিকি ধরে কী পাইয়াছো
হিসাবে মিলাইছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি


পাষাণ পূজায় আসান হয় না জীবনের দুঃখ-ব্যথা
দেখ হাদিসে করিয়া হদিস যজুর্বেদেও সেই কথা
একটি বছর হইলে পূর্তি
মাটি নিয়া করো ফূর্তি
তোমার ঘরে আছে জ্যান্ত মূর্তি
তাহার পূজা করছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি


তোমার ময়লা মনে বয়লা হাতে গলায় পরো রুদ্রাক্ষ
ভক্ত তুমি বড়ই শক্ত গেরুয়ায় দিচ্ছে সাক্ষ্য
আইছো হাট-বাজারের রঙ লাগাইয়া
পরার কাপড় ছাপাইয়া
একদিন কৃষ্ণ নামের রঙ মাখাইয়া
মনটারে রাঙাইছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি


‘ব্যাপিত্তঞ্চ নিরাকৃতম্‌ যত্তীর্থ যাত্রা দিনা’
বেদব্যাস বলছেন তাহা বলো কথা সত্য কিনা
কাশীতে নাই শিব আর কালী
কী দেখতে যাও খালি খালি
আছে মনের ঘরে বনমালী
খুঁইজা তারে দেখছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি


নকুল বলে শোনো আমার হিন্দু ভাই ভগ্নিগণ
এই দেহের মধ্যেই গয়া-কাশী-শ্রীক্ষেত্র আর বৃন্দাবন
যাও পাসপোর্ট আর ভিসা করে
হরকে দেখতে হরিদ্বারে
একদিন যেতে হবে পরপারে
তাহার ভিসা আনছোনি
ভাগবত পড়ে ভগবানকে পাইছোনি